শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
বেলকুচিতে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ
প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সিরাজগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মাঝে ২ হাজার চারা বিতরণ
পঞ্চগড় সদরে মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত-১,গুরুতর আহত ২
সংবাদ প্রকাশের জেরে হুমকি,নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা সাংবাদিক শরীফুল ইসলাম ইন্নার
সিরাজগঞ্জে হোসেনপুর রানার্স ক্লাবের আয়োজনে জমজমাট আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল প্রীতি ফুটবল ম্যাচ
মৃত্যুর ৫১ বছর পরও অবিস্মরণীয় সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ
সিরাজগঞ্জের রায়পুরে রেল জংশন প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানববন্ধন
হাতিরঝিলে পরিচ্ছন্নতা অভিযান: গ্রীন ও ক্লিন ঢাকার বার্তা দিল রাজউক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক-কর্মচারী দল
কাজিপুরে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত
সিরাজগঞ্জে ধুকুরিয়াবেড়াকে রোল মডেল ইউনিয়ন গড়ার প্রতিশ্রুতি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নূর আলমের

মৃত্যুর ৫১ বছর পরও অবিস্মরণীয় সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ

Download Photocard



সিরাজগঞ্জ সংবাদ প্রতিবেদক:
সিরাজগঞ্জের কৃতিসন্তান, তৎকালীন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রী এবং বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৩ জুন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সমাজসেবামূলক কর্মজীবনের মাধ্যমে তিনি আজও সিরাজগঞ্জবাসীর হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
১৯০০ সালে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের কয়েলগাঁতী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। শৈশব ও শিক্ষাজীবনের একটি বড় অংশ কাটে সিরাজগঞ্জ শহরে। পরবর্তীতে রংপুর কারমাইকেল কলেজ, কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। আরবি ভাষা ও আইনে উচ্চ ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯২৪ সালে সিরাজগঞ্জে আইন পেশায় যুক্ত হন।
আইনজীবী হিসেবে সুনাম অর্জনের পাশাপাশি তিনি রাজনীতি ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, মুসলিম লীগের রাজনীতি এবং পাকিস্তান আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি সিরাজগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান, তৎকালীন পাবনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ১৯৩৭ সালে বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলির সদস্য (এমএলএ) নির্বাচিত হন।
১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের সম্মেলনে সিরাজগঞ্জের প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। ১৯৪২ সালে সিরাজগঞ্জে অনুষ্ঠিত সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ সম্মেলনের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন এবং কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে সিরাজগঞ্জে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর তিনি কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের সদস্য, জয়েন্ট চিফ হুইপ এবং কলকাতায় পাকিস্তানের ডেপুটি হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৩ সালে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
মন্ত্রী থাকাকালে উত্তরবঙ্গে একাধিক সুগার মিল, ঈশ্বরদী স্টিল মিল, পাকশী পেপার মিল, সিরাজগঞ্জের ওপেল বিস্কুট ফ্যাক্টরি এবং কওমী জুট মিল সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন শিল্প প্রকল্প বাস্তবায়নে অবদান রাখেন। এছাড়া সিরাজগঞ্জ কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন, শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ, যমুনা নদী খনন প্রকল্পসহ নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
শিক্ষা বিস্তারেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। সিরাজগঞ্জ মুসলিম হাই স্কুল, ভিক্টোরিয়া হাই স্কুল, সালেহা ইসহাক গার্লস স্কুল, সিরাজগঞ্জ কলেজ ও ইসলামিয়া কলেজের উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান প্রশংসিত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সিন্ডিকেট সদস্যদের একজন ছিলেন।
১৯৬৯ সালের পর বার্ধক্যজনিত কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। ১৯৭৫ সালের ১৩ জুন মৃত্যুবরণ করেন এই বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। তাঁকে নিজ গ্রাম কয়েলগাঁতীর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের স্মৃতি সংরক্ষণে সিরাজগঞ্জ শহরের একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে ‘আল-মাহমুদ এভিনিউ’। এছাড়া তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ট্রাস্ট ও বিভিন্ন স্মারক স্থাপনা।
মৃত্যুর ৫১ বছর পরও শিক্ষা, রাজনীতি, সমাজসেবা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তাঁর অবদান সিরাজগঞ্জবাসীর কাছে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে আছে। তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন পরিবারের সদস্য, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সর্বোপরি সিরাজগঞ্জবাসী।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০