শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
বেলকুচিতে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ
প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সিরাজগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মাঝে ২ হাজার চারা বিতরণ
পঞ্চগড় সদরে মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত-১,গুরুতর আহত ২
সংবাদ প্রকাশের জেরে হুমকি,নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা সাংবাদিক শরীফুল ইসলাম ইন্নার
সিরাজগঞ্জে হোসেনপুর রানার্স ক্লাবের আয়োজনে জমজমাট আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল প্রীতি ফুটবল ম্যাচ
মৃত্যুর ৫১ বছর পরও অবিস্মরণীয় সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ
সিরাজগঞ্জের রায়পুরে রেল জংশন প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানববন্ধন
হাতিরঝিলে পরিচ্ছন্নতা অভিযান: গ্রীন ও ক্লিন ঢাকার বার্তা দিল রাজউক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক-কর্মচারী দল
কাজিপুরে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত
সিরাজগঞ্জে ধুকুরিয়াবেড়াকে রোল মডেল ইউনিয়ন গড়ার প্রতিশ্রুতি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নূর আলমের

চলনবিলে মাছসংকট,হুমকির মুখে শুঁটকি শিল্প

Download Photocard

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দেশের বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি চলনবিলে মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে শুঁটকিশিল্প। মাছের অভাবে সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় শুঁটকি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলের শুঁটকি চাতালে কর্মরত শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়ছেন।

প্রায় ১২০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ২২টি জলাশয় ও ১৬টি নদীর সমন্বয়ে চলনবিলের অবস্থান। এই চলনবিল ঘিরে তিন জেলার ৯টি উপজেলায় গড়ে ওঠা শুঁটকিপল্লীতে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান হয়ে থাকে। চাতালগুলোতে ভোর থেকেই শত শত নারী-পুরুষ মাছে লবণ মাখানো, শুকানো, উল্টে-পাল্টে দেওয়া, বাছাইসহ নানা কাজে ব্যস্ত থাকেন। 

এসব চাতালে দেশি প্রজাতির রুই, কাতলা, মাগুর, শিং, কৈ, পাবদা, পুঁটি, চিতল, বাঘাইড়, বোয়াল, গজার, এবং টেংরা মাছ শুঁটকি করা হয়।

এখানকার শুঁটকি রাজধানী ঢাকা, সৈয়দপুর, নীলফামারীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়ে থাকে। গত বছর চলনবিলে প্রায় ৮০০ টন শুঁটকি উৎপাদন হয়েছিল। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার টন।

সিরাজগঞ্জের তাড়াশের চাতাল মালিক অভিযোগ করে বলেন, প্রভাবশালীদের ইন্ধনে চলনবিলে বাদাই জাল দিয়ে পোনা মাছ নিধন করা হয়ে থাকে।

পাশাপাশি চলনবিলজুড়ে অতিরিক্ত পুকুর খনন করায় মাছের অবাধ বিচরণও বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়াও খরা মৌসুমে পানি সেচ দিয়ে মাছ ধরার কারণেও বিলের মাছ দিনদিন কমছে। এতে খরচ বাড়লেও উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাতাল ব্যবসায়ীদের লোকসান হচ্ছে।

শুঁটকি ব্যবসায়ীরা আরো জানান, প্রতিদিন একটি শুঁটকির চাতালে ৩০০ মণ মাছের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় বাজার ও মৎস্য আড়ত ঘুরে ৩০-৫০ মণের বেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে শুঁটকি উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

মহিষলুটি মৎস্য আড়তদাররা বলেন, মাছ সংকটের কারণে অনেক চাতাল ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। বাকিগুলোও বন্ধ হওয়ার পথে। এ অবস্থায় চাতালের কাজে জড়িত প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ শ্রমিক বেকার হয়ে গেছেন।

তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোকারম হোসেন বলেন, দেশ-বিদেশে চলনবিলের শুঁটকির সুনাম রয়েছে। তবে মা মাছ নিধন, কীটনাশক ব্যবহার ও প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস হওয়ায় এই বিলে মাছের উৎপাদন প্রতি বছর কমে যাচ্ছে। এ বছর কয়েক দফায় পানি আসা ও দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে। গত বছর এই উপজেলায় ১৪৩ টন শুঁটকি উৎপাদন হয়েছিল। কিন্তু মাছ সংকটের কারণে এবার ৩০/৪০ টন কম উৎপাদন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০