শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
বেলকুচিতে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ
প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সিরাজগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মাঝে ২ হাজার চারা বিতরণ
পঞ্চগড় সদরে মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত-১,গুরুতর আহত ২
সংবাদ প্রকাশের জেরে হুমকি,নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা সাংবাদিক শরীফুল ইসলাম ইন্নার
সিরাজগঞ্জে হোসেনপুর রানার্স ক্লাবের আয়োজনে জমজমাট আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল প্রীতি ফুটবল ম্যাচ
মৃত্যুর ৫১ বছর পরও অবিস্মরণীয় সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ
সিরাজগঞ্জের রায়পুরে রেল জংশন প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানববন্ধন
হাতিরঝিলে পরিচ্ছন্নতা অভিযান: গ্রীন ও ক্লিন ঢাকার বার্তা দিল রাজউক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক-কর্মচারী দল
কাজিপুরে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত
সিরাজগঞ্জে ধুকুরিয়াবেড়াকে রোল মডেল ইউনিয়ন গড়ার প্রতিশ্রুতি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নূর আলমের

চোখ হারিয়েও থেমে যাননি ঠাকুরগাঁওয়ের লামিম

Download Photocard

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট। খেলতে যাওয়ার অজুহাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ছিলেন ১৪ বছরের লামিম হাসান। কেউ ভাবেনি সে দিনই বদলে যাবে তার জীবন। ঠাকুরগাঁওয়ের নারগুন গ্রামের এই কিশোর ছেলেটি সেদিন আন্দোলনে গিয়ে ফিরে এসেছেন এক চোখ হারিয়ে। তবুও তার মনোবলে এতটুকু চির ধরেনি। বরং চোখের আলো হারিয়ে হলেও পেয়েছেন ভবিষ্যতের এক দীপ্ত স্বপ্ন, একটি ন্যায়ের বাংলাদেশ।

জুলাই-আগস্ট গণআন্দোলন চলাকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে গুলিতে মারাত্মক আহত হন লামিম। সহযোদ্ধারা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি ফেরেনি লামিমের। বরং দিন দিন অবনতি হচ্ছে চোখের অবস্থার। এখন শুধু থেকে গেছে যন্ত্রণা আর চোখ বেয়ে যাওয়া পানি।

তবু হতাশ নয় এ কিশোর। লামিম বলেন, আমার চোখ নেই, কিন্তু আফসোসও নেই। আমার তো শুধু চোখটা নেই, কিন্তু অনেক ভাই তো বেঁচেই নেই। আমি তাদের জন্য দোয়া করি। আর স্বপ্ন দেখি এমন একটা বাংলাদেশের, যেখানে অন্যায়-দুর্নীতি থাকবে না, থাকবে না হানাহানি বা বিভেদ।

ছেলের এমন আত্মত্যাগে গর্বিত বাবা মমিনুল ইসলামও। জলে ভাসা চোখে তিনি বলেন, লামিম যখন গুলিবিদ্ধ হয়, খবর পেয়ে খোঁজ করতে গিয়ে তাকে হাসপাতালে পাই। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য কখনো দিনাজপুর, পরে ঢাকা নিয়ে যাই। বাসার জমি বন্ধক রেখে ছেলের চিকিৎসা করিয়েছি কিন্তু কোনো আফসোস নেই। কারণ আমার ছেলে তার চোখ দিয়ে দেশকে জাগিয়েছে।

তবে এখন চোখে জটিলতা দেখা দিয়েছে লামিমের। প্রয়োজন উন্নত চিকিৎসার। পরিবারের দাবি, তাকে যেন বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

লামিমের বাবা মমিনুল ইসলাম বলেন, সরকার যা করেছিল তা সামান্য। সহযোগিতা দরকার। ছেলে দেশের জন্য লড়েছে, এখন দেশ যেন তার পাশে দাঁড়ায়।

শুধু লামিম নন, এমন আরও বহু শিক্ষার্থী এখনো শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন গুলির ক্ষতচিহ্ন। অনেকে চিকিৎসার অভাবে ভুগছেন নীরবে। তাদের একজন আহত আন্দোলনকারী মেহরাব হোসেন বলেন, এক বছর হয়ে গেছে কিন্তু এখনো অনেকেই চিকিৎসা পায়নি। আমরা চাই, আগে যেন আমাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়। যারা অঙ্গ হারিয়েছে, তাদের বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা হোক।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানা জানিয়েছেন, জেলায় তিন শতাধিক আহত আন্দোলনকারীকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বাকি যারা আছেন তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থাও প্রক্রিয়াধীন।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০