ফটোকার্ড
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান :
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বৃহত্তর নওগাঁ হাটে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ রিং (চায়না দুয়ারি) ও কারেন্ট জাল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। প্রতি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই হাটে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এসব নিষিদ্ধ জাল বেচাকেনা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারির অভাবের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, হাট কমিটির কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চলে আসছে। ফলে চলনবিল অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ সহজেই এসব জাল কিনে বিলের বিভিন্ন স্থানে ব্যবহার করছেন। এতে মা মাছ ও পোনা মাছ নির্বিচারে নিধন হওয়ায় দেশীয় মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাটের পশ্চিম পাশে সারি সারি করে রিং (চায়না দুয়ারি) ও কারেন্ট জাল সাজিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারা প্রকাশ্যেই এসব জাল কিনছেন। নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা প্রভাব খাটিয়ে এ ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত অনেকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রিং ও কারেন্ট জাল ব্যবহারের ফলে চলনবিলের দেশীয় প্রজাতির মাছ দ্রুত কমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে অনেক প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়বে। তারা অবৈধ জাল বিক্রি ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে নওগাঁ হাট কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, “হাটে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়। এর মধ্যে কে বা কারা অবৈধ জাল বিক্রি করছে, তা সবসময় নজরে রাখা সম্ভব হয় না। তবে হাটে কোনো অবৈধ পণ্য বিক্রিতে হাট কমিটির সহযোগিতার প্রশ্নই আসে না।”
তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, “রিং (চায়না দুয়ারি) ও কারেন্ট জাল বিক্রি এবং ব্যবহার সম্পূর্ণ অবৈধ। আমরা এর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছি এবং ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিষিদ্ধ জালের অবাধ ব্যবহার বন্ধ করা না গেলে চলনবিলের জীববৈচিত্র্য ও দেশীয় মাছের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই অবৈধ জাল বিক্রি ও ব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।





