শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
বেলকুচিতে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ
প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সিরাজগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মাঝে ২ হাজার চারা বিতরণ
পঞ্চগড় সদরে মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত-১,গুরুতর আহত ২
সংবাদ প্রকাশের জেরে হুমকি,নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা সাংবাদিক শরীফুল ইসলাম ইন্নার
সিরাজগঞ্জে হোসেনপুর রানার্স ক্লাবের আয়োজনে জমজমাট আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল প্রীতি ফুটবল ম্যাচ
মৃত্যুর ৫১ বছর পরও অবিস্মরণীয় সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ
সিরাজগঞ্জের রায়পুরে রেল জংশন প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানববন্ধন
হাতিরঝিলে পরিচ্ছন্নতা অভিযান: গ্রীন ও ক্লিন ঢাকার বার্তা দিল রাজউক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক-কর্মচারী দল
কাজিপুরে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত
সিরাজগঞ্জে ধুকুরিয়াবেড়াকে রোল মডেল ইউনিয়ন গড়ার প্রতিশ্রুতি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নূর আলমের

ভাঙ্গুড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজে ফরম ফিলাপ বিতর্ক; প্ররোচনার আসল তথ্য বেড়িয়ে এলো তদন্তে

Download Photocard

পাবনা প্রতিনিধিঃ পাবনার মহিলা ডিগ্রি কলেজ ভাঙ্গুড়ার ২০২৬-সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপ কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সহ কয়েক টি বেনামী অনলাইন পোর্টালে ছড়িয়ে পড়া ‘আত্মহত্যার হুমকি’ সংক্রান্ত ভিডিওটি সাজানো ও ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে।স্থানীয় প্রশাসনের তদন্তে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।
বিষয়টি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা চললেও তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের জন্য নিয়ম অনুযায়ী সারাদেশের ন্যায় কলেজে একটি নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ঐ পরীক্ষায় মোট ১১৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ২২ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। ফলে কলেজ কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী তাদের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের অনুমতি দেয়নি।

পরবর্তীতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা বিষয়টি নিয়ে কলেজ গভর্নিং বডির কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানায়। তারা দাবি করে, আরেক বার সুযোগ দিলে তারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও গভর্নিং বডি শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে পুনরায় একই প্রশ্নপত্রে আরেকটি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
পুনঃপরীক্ষায়ও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসেনি। ২২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২২ জন পুনরায় অকৃতকার্য হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, ফেল করা শিক্ষার্থীদের অনেকেই ইংরেজি বিষয়ে শূন্য(০) থেকে সর্বোচ্চ ১০ নম্বর পর্যন্ত পেয়েছে, যা তাদের প্রস্তুতির ঘাটতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

এদিকে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে এসব শিক্ষার্থী ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মিজানুর রহমান এর কাছে অভিযোগ জানাতে যায়। এ আগে শিক্ষার্থীরা ফরম ফিলাপের সুযোগ না পেলে আত্মহত্যার হুমকি দেয় বলে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দ্রুত ফেসবুক সহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং কয়েকটি বেনামী অনলাইন পোর্টালেও বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এতে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পরপরই উপজেলা প্রশাসন বিষয় টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে। কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করে পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে ভিন্ন চিত্র।

তদন্তে জানা যায়, কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থানকালে সাংবাদিক পরিচয়ে তিন জন ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের এ ধরনের বক্তব্য দিতে প্ররোচিত করেন। তারা শিক্ষার্থীদের বোঝান যে, আত্মহত্যার হুমকি দিলে প্রশাসন চাপের মুখে পড়ে ফরম ফিলাপের সুযোগ দিতে বাধ্য হবে। তাদের এমন পরামর্শে প্রভাবিত হয়ে শিক্ষার্থীরা ভিডিওতে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে বক্তব্য দেন।

তবে পরে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে অনুতপ্ত হয়ে নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। শিক্ষার্থীরা জানায়, মূলত অন্যের কথায় প্ররোচিত হয়ে তারা এমন বক্তব্য দিয়েছিল এবং তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য আত্মহত্যার মতো কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়। তারা আগামী বছর আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

এ বিষয়ে মহিলা ডিগ্রি কলেজ ভাঙ্গুড়ার অধ্যক্ষ জনাব মো. মোস্তফা কামাল বলেন,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কিছু অনলাইন পোর্টালে যে ভিডিওটি প্রচারিত হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, সাজানো এবং ভিত্তিহীন। প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করেই বিভ্রান্তিকরভাবে বিষয়টি প্রচার করা হয়েছে, যা কলেজের ভবিষ্যৎ সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে। তিনি আরও বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ সব সময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে এবং নিয়মের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে আলোচনা করে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যের পেছনে প্ররোচনার বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তাদের মানসিকভাবে সচেতন করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ঘটনা বা গুজব যাতে না ছড়ায় সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ছবি: মহিলা ডিগ্রি কলেজ ভাঙ্গুড়া,পাবনা। এইচএসসি ফরম ফিলাপ ইস্যু নিয়ে কথা বলছেন প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০