“
সিরাজগঞ্জ সংবাদ প্রতিবেদক:
মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী। পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষের জন্ম হয়, আবার সময়ের পরিক্রমায় একদিন সবাইকেই বিদায় নিতে হয়। তবে জীবনের শেষ হওয়ার পরও কিছু মানুষ যুগের পর যুগ মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকেন। তাদের স্মরণ করা হয় শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে। কারণ তারা নিজেদের জীবনকে শুধুমাত্র ব্যক্তিস্বার্থে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের কল্যাণে উৎসর্গ করেছিলেন। সমাজ, দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করেই তারা হয়ে উঠেছেন অনুকরণীয় ও স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব।
এমনই মানবিক ও বাস্তবধর্মী মন্তব্য করেছেন সমাজসেবক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ব্যক্তিত্ব মির্জা মোস্তফা জামান। তিনি বলেন, “মানুষ তোমাকে তখনই মনে রাখে, যখন তুমি তাদের কাজে লাগো।” এই একটি বাক্যের মধ্যেই মানুষের জীবনের প্রকৃত মূল্য ও সামাজিক দায়িত্ববোধের গভীর বার্তা নিহিত রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সমাজে অনেকেই জনপ্রিয় হওয়ার জন্য নানা ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে থাকেন। কেউ ক্ষমতার দাপট দেখান, কেউ আবার সাময়িক আলোচনায় আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো— মানুষ শেষ পর্যন্ত কথাকে নয়, কাজকেই মূল্যায়ন করে। একজন ব্যক্তি কত বড় পদে আছেন, কত অর্থ-সম্পদের মালিক কিংবা কতটা প্রভাবশালী— তা দীর্ঘদিন মানুষের মনে জায়গা করে দিতে পারে না। বরং মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং সমাজের উন্নয়নে বাস্তব অবদান রাখাই একজন মানুষকে স্মরণীয় করে তোলে।
মির্জা মোস্তফা জামান আরও বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক নেতার প্রকৃত পরিচয় তার বক্তব্যে নয়, বরং তার কার্যক্রমে প্রকাশ পায়। সাধারণ মানুষ তখনই একজন নেতাকে আপন মনে করে, যখন তিনি মানুষের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করেন এবং সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসেন। জনগণের সুখ-দুঃখের অংশীদার না হয়ে কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য দিলে মানুষের আস্থা অর্জন করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, সমাজে আজও অনেক মানুষ আছেন যারা নীরবে মানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন। কেউ অসহায় মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছেন, কেউ দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, আবার কেউ প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসছেন। এসব কাজের মাধ্যমেই প্রকৃত মানবিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। কারণ একজন মানুষের আসল পরিচয় তার ব্যবহার, দায়িত্ববোধ এবং অন্যের প্রতি সহমর্মিতার মধ্যেই ফুটে ওঠে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে সমাজে বিভেদ, হিংসা ও স্বার্থপরতা অনেক বেড়ে গেছে। মানুষ অনেক ক্ষেত্রে নিজের স্বার্থের বাইরে চিন্তা করতে চায় না। অথচ একটি সুন্দর সমাজ গঠনের জন্য প্রয়োজন পারস্পরিক সহযোগিতা, মানবিকতা ও দায়িত্বশীলতা। ব্যক্তি যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমাজের জন্য ইতিবাচক কিছু করার মানসিকতা গড়ে তোলে, তাহলে সমাজ ও রাষ্ট্র উভয়ই উপকৃত হবে।
মির্জা মোস্তফা জামান মনে করেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করার মধ্যে এক ধরনের আত্মতৃপ্তি রয়েছে, যা অর্থ বা ক্ষমতা দিয়ে অর্জন করা সম্ভব নয়। মানুষের দোয়া, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাই একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। কারণ মৃত্যুর পর অর্থ-সম্পদ কিংবা ক্ষমতা কোনো কিছুই মানুষের সঙ্গে থাকে না, থেকে যায় কেবল তার কর্ম ও মানুষের হৃদয়ে রেখে যাওয়া স্মৃতি।
তিনি তরুণ সমাজের উদ্দেশ্যে বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে শুধু ব্যক্তিগত সফলতার পেছনে ছুটলে চলবে না, পাশাপাশি সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্ববোধও থাকতে হবে। মানবিক মূল্যবোধ, সততা এবং মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে পারলেই একজন মানুষ প্রকৃত অর্থে সফল হতে পারে।
পরিশেষে তিনি বলেন, “জীবনে এমন কিছু কাজ করে যেতে হবে, যাতে মানুষ তোমাকে সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করে। কারণ পৃথিবীতে মানুষের জন্য কাজ করাই সবচেয়ে বড় ইবাদত ও সবচেয়ে বড় মানবতা। মানুষ তোমাকে তখনই মনে রাখবে, যখন তুমি তাদের উপকারে আসবে।”





