মোঃ আখতার হোসেন হিরন :
সরাসরি টাঙ্গাইল হতে পরিচালিত সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় প্রতিষ্ঠিত “শাহীন স্কুল” এ আনন্দঘন ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার(১৪ এপ্রিল ২০২৬) সকালে স্কুল প্রাঙ্গণে বৈশাখী র্যালি ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে সকালে স্কুল থেকে একটি বর্ণিল বৈশাখী র্যালি বের করা হয়। রঙ-বেরঙের পোশাকে সজ্জিত হয়ে স্কুলের শিক্ষক,শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এই র্যালিতে অংশ নেন। র্যালিটি থানা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় স্কুল মাঠে এসে শেষ হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শাহীন স্কুল সলঙ্গা শাখার পরিচালক মো: আব্দুস সামাদ এবং মো: রাকিব হোসেন।
এছাড়াও স্কুলের সকল শিক্ষক,শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে দিনটির আনন্দ ভাগ করে নেন।

স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরে। কবিতা আবৃত্তি ও নাচের মাধ্যমে পুরো আয়োজনটি এক ভিন্ন মাত্রা পায়। অনুষ্ঠান শেষে ঐতিহ্যবাহী পান্তা,ইলিশ ভোজের আয়োজন করা হয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পান্তা,ইলিশ খাওয়ার মধ্য দিয়েই এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। নববর্ষের এই অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশীয় সংস্কৃতির চেতনা ছড়িয়ে দিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য– পহেলা বৈশাখ (বাংলা নববর্ষ) বাঙালির অন্যতম প্রধান উৎসব। এর ইতিহাস বহু পুরনো এবং মূলত কৃষি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সাথে জড়িত।
পহেলা বৈশাখের ইতিহাস শুরু হয় মুঘল সম্রাট আকবর-এর সময় থেকে (১৬শ শতাব্দী)। তখন কৃষকদের কাছ থেকে খাজনা (কর) আদায় করা হতো হিজরি (চন্দ্র) ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, যা ফসল তোলার সময়ের সাথে মিলত না। ফলে কৃষকদের জন্য সমস্যা তৈরি হতো।
এই সমস্যা সমাধানের জন্য আকবর একটি নতুন বর্ষপঞ্জি চালু করেন, যা সৌর বছরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি “ফসলি সন” নামে পরিচিত ছিল, যা পরবর্তীতে “বাংলা সন” বা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।





