ছাম্মি আহমেদ আজমীর :
শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় শিক্ষা হলো মানুষ গড়ার এক মহৎ সাধনা। আর সেই সাধনাতেই নিজের পুরো জীবন উৎসর্গ করে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাটে ইউনিয়নে অবস্থিত শামছুন মহসীন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জীবন কুমার সাহা। দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা,সততা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের পথচলার শেষে অবশেষে এল বিদায়ের সেই বেদনাবিধুর ক্ষণ।
কামারখন্দ সিরাজগঞ্জের এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিনি শুধু একজন প্রধান শিক্ষক ছিলেন না ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক,একজন অভিভাবক,একজন পথপ্রদর্শক। তাঁর হাত ধরেই অসংখ্য শিক্ষার্থী শুধু শিক্ষিত হয়নি হয়েছে আলোকিত মানুষ। তাঁর কঠোর শাসনের আড়ালে ছিল সীমাহীন মমতা তাঁর প্রতিটি উপদেশে ছিল জীবনের দিকনির্দেশনা।

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি যেন এক আবেগের মিলনমেলায় পরিণত হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী,অভিভাবক ও এলাকার বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে ভারাক্রান্ত ও অশ্রুসিক্ত। প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানানোর মুহূর্তে অনেক শিক্ষার্থীর কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে চোখ ভিজে ওঠে অশ্রুজলে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন তাঁর কর্মময় জীবনের নানা দিক তারা তুলে ধরে বলেন,জীবন কুমার সাহা শুধু একজন শিক্ষক নন তিনি একটি প্রতিষ্ঠান। তাঁর সততা,নিষ্ঠা ও আদর্শ আমাদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে যুগের পর যুগ।

শিক্ষার্থীরা জানান,স্যার আমাদের শুধু পড়াননি তিনি আমাদের মানুষ হতে শিখিয়েছেন। তাঁর শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।
বিদায়ী বক্তব্যে জীবন কুমার সাহা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন,
এই বিদ্যালয় এই প্রাঙ্গণ এই শিক্ষার্থীরাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। এখানে কাটানো প্রতিটি দিন প্রতিটি মুহূর্ত আমার হৃদয়ে গেঁথে থাকবে চিরকাল। আমি সবার কাছে দোয়া চাই যেন জীবনের পরবর্তী সময়টুকু ভালোভাবে কাটাতে পারি।

উল্লেখ্য: অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ফুলেল শুভেচ্ছা,সম্মাননা স্মারক এবং অগণিত ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে এক আবেগঘন পরিবেশে তাঁকে বিদায় জানানো হয়। সেই বিদায়ের মুহূর্ত যেন বলে দেয়
একজন সত্যিকারের শিক্ষক কখনো অবসর নেন না তিনি বেঁচে থাকেন তাঁর শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে তাঁদের সাফল্যের গল্পে।জীবন কুমার সাহা একটি নাম একটি প্রেরণা একটি আলোকবর্তিকা। তাঁর অবদান চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে শিক্ষা অঙ্গনে।





