মোঃ হোসেন আলী (ছোট্ট) : সকাল শুরু হয় পুকুরে মাছের খাবার ছিটিয়ে। দুপুরে ছুটে যান খবর সংগ্রহে কখনো সংবাদপত্রের পৃষ্ঠায়, কখনো পুকুরপাড়ে। এক হাতে কলম, আরেক হাতে মাছ ধরার জাল। তিনি আব্দুর রাজ্জাক রাজ সাংবাদিক ও মৎস্যচাষি, একসঙ্গে দুই পরিচয়ে সমান পরিচিত। সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার কোনাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক রাজ। তিনি জাতীয় দৈনিক ‘দিনকাল’ পত্রিকার প্রতিনিধি ও কামারখন্দ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক।চার বছর আগেও তিনি ছিলেন শুধুই একজন সংবাদকর্মী। কিন্তু ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় সাহসিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন যাত্রা শুরু করেন। যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ সড়কের পাশে ৫টি সরকারি পুকুর ইজারা নেন আয়তন প্রায় ৩৮ বিঘা। হাতে পুঁজি ছিল না, সাড়ে চার লাখ টাকা ধার করেই শুরু করেন মাছ চাষ। শুরুটা কঠিন ছিল পরিশ্রম, লোকসান, অনিশ্চয়তা সবকিছুই ছিল পাশে। কিন্তু দমে যাননি রাজ। পুকুরে ছাড়েন রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প, গ্রাস কার্পসহ বিভিন্ন মাছ। সঙ্গে পুকুরপাড়ে চাষ করেন লাউ, কুমড়া, করলা, কলা, ডাঁটা। এখন প্রতিবছর খরচ বাদ দিয়ে আয় হচ্ছে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা।
সোমবার ( ১৮ আগস্ট ২০২৫) সকালে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালিটি ও আলোচনা সভা ও মৎস্য খাতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ক্রেস্ট সন্মাননা স্মারক প্রদান অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে উপজেলা সভাকক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে
সভাপতিত্বে করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনামিকা নজরুল। এসময়ে উপস্থিত ছিলেন কামারখন্দ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার রায়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উৎপাদনে বিশেষ অবদান রাখার জন্য মৎস্যচাষী ও
জাতীয় দৈনিক ‘দিনকাল’ পত্রিকার প্রতিনিধি ও কামারখন্দ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রাজ এর হাতে সম্মাননা সনদ ও ক্রেস তুলে দেন কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনামিকা নজরুল।
উপজেলা পর্যায়ে সফল মৎস্য চাষির পুরস্কারে ভূষিত আব্দুর রাজ্জাক রাজ বলেন, প্রথমে মানুষ তাচ্ছিল্য ও হাসাহাসি করেছে। সফল হলে পরে মানুষ বাহবা দেয়। আমি শুধু সাংবাদিক না, নিজের ভবিষ্যৎ গড়ারও চেষ্টা করছি।
রাজের মতে, সততা আর পরিকল্পনা থাকলে যেকোনো কাজেই সফলতা আসে। ছোট পরিসরে হলেও কিছু শুরু করা উচিত। সেখানেও সফল মৎস্য চাষী হিসেবে এসএম মাসুদুর ও আব্দুর রাজ্জাক নামের দুজন পুরস্কার পান।






