শাহজাদপুর প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের পর প্রথম মাসেই ভেঙে গেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন চারটি ইউনিয়নের ১৪টি গ্রামের ২০-২৫ হাজার মানুষ।
উপজেলার কৈজুরি, গালা, পৈারজনা, জালালপুর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে আট মাস আগে কৈজুরি-পাঁচিল বাজার আঞ্চলিক সড়কের জয়পুরা ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন খালের ওপর ১৫ মিটার লম্বা সেতুটি নির্মাণ করা হয়।
তারপর কিছুদিন আগে এর সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ হয়। কিন্তু মাস না পেরোতেই বৃষ্টিতে ভেঙে গিয়ে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে শুক্রবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালনও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
তাদের অভিযোগ, রড ছাড়াই নিম্নমানের পুরাতন ইট ও লোকাল বালু ব্যবহার করে নামমাত্র গাইড ওয়াল দিয়ে সংযোগ সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে। যে কারণে তা ভেঙে গেছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া জয়পুরা গ্রামের আলেয়া খাতুন ও আবু তাহের বলেন, সেতু হওয়ায় তাদের দীর্ঘদিনের ভোগন্তির অবসান হয়েছিল। কিন্তু অল্পদিনেই সড়ক ভেঙে যাওয়ায় ফলে দিয়ে যানবাহন ও পথচারীরা চলাচল করতে পারছে না। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয় শিক্ষার্থী রবিন ও রাসেল বলেন, সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় স্কুল ও কলেজে যাতায়াতে নানা সমস্যার পাশাপাশি অনেক সময় ভাঙা স্থানে পড়ে পোশাক নষ্ট হচ্ছে।
এছাড়া শুধু সংযোগ সড়ক নয় সেতু নির্মাণেও অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
স্থানীয় আল আমিন ও আমিরুল ইসলাম বলেন, সেতুটি নির্মাণের শুরুতেই ঠিকাদারকে সিডিউল অনুযায়ী কাজ করতে বলা হলেও তা করেননি। পানির মধ্যে ৫০ ফুট পাইলিং না করে ২০ ফুটের কম পাইলিং করে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।
মানববন্ধন থেকে ভুক্তভোগীরা দ্রুত টেকসই সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৬ লাখ ৩৮ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মের্সাস বিসমিল্লাহ ট্রেডাস। এরপর ২৪-২৫ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা ও কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় ৬ লাখ ৩০ হাজার ৯১৬ টাকা ব্যয়ে সেতুর সংযোগ (সিসিকরণ) সড়ক নির্মাণ করা হয়।
এ প্রকল্পের সভাপতি ও কৈজুরী ইউপির ২নং ওয়ার্ডের সদস্য শাহজাহান আলী ব্যাপারী বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী কাজ করেছি।এরমধ্যে বিলও উত্তোলন করা হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে সংযোগ সড়কটি ভেঙে গেছে। এতে আমার কিছু করার নেই।”
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল কালাম আজাদ বলেন, “সেতুটি আগের পিআইওর সময়ে নির্মিত হয়েছে। ওই সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারবো না। আমার সময়ে নির্মাণ করা সংযোগ সড়কটি বৃষ্টির কারণে ভেঙে গেছে। নতুন বরাদ্দ পেলে সংস্কার করা হবে।”
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে গাইড ওয়ালের পাশ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় সংযোগ সড়কটি ভেঙে গেছে।এর মধ্যেই ঠিকাদারকে ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক মেরামতের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে






