ছাম্মি আহমেদ আজমীর :
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালের এসএসসি ব্যাচের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক জমজমাট প্রীতি টি-২০ ক্রিকেট ম্যাচ।
সোমবার (২৩ মার্চ ২০২৬) সকালে ঐতিহ্যবাহী সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এই ম্যাচটি যেন পরিণত হয় এক আনন্দঘন উৎসবে।খেলাধুলার উত্তেজনার পাশাপাশি স্মৃতি,ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের উষ্ণ বন্ধনে আবদ্ধ হন অংশগ্রহণকারীরা।দীর্ঘদিন পর এক ছাদের নিচে এক মাঠে একত্রিত হয়ে ৯৩ ও ৯৪ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ফিরে যান তাদের তারুণ্যের সোনালি দিনে।

মাঠজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ গান, উচ্ছ্বাস,হাসি-আনন্দ আর বন্ধুত্বের অনাবিল ছোঁয়া।খেলায় অংশগ্রহণকারী দুই দলই দারুণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে উপস্থিত দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৯৩ ও ৯৪ ব্যাচের প্রতিনিধিরা সবাইকে স্বাগত জানান এবং এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এসময় তারা বলেন,ব্যস্ত জীবনের মাঝে এমন মিলনমেলা প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আয়োজকরা জানান,ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির পাশাপাশি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও আরও বড় পরিসরে এমন মিলনমেলা ও ক্রীড়া আয়োজন করার। তারা আরও বলেন,
খেলার মাঠে ছিল চমৎকার ব্যাটিং-বোলিংয়ের লড়াই। প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও পুরো ম্যাচজুড়ে বজায় ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ।মাঠের চারপাশে পরিবার-পরিজন,সন্তান-সন্ততি ও স্থানীয় ক্রীড়ামোদী দর্শকদের উপস্থিতি আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। ছোটরাও এ উৎসবে অংশ নিয়ে উপভোগ করে আনন্দঘন মুহূর্ত।

ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ১৯৯৪ ব্যাচ নির্ধারিত ২০ ওভারে সংগ্রহ করে ২০২ রান। জবাবে ১৯৯৩ ব্যাচ ১৮০ রান করে ২১ রানে পরাজিত হয়। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য ১৯৯৩ ব্যাচের আব্দুল্লাহ আল মামুন টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। ম্যান অব দ্য ম্যাচ হন ১৯৯৪ ব্যাচের আব্দুল্লাহ এবং সেরা বোলার নির্বাচিত হন একই ব্যাচের শফিক।
ম্যাচ শেষে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। বিজয়ী দলের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি এবং রানার্সআপ দলের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। এছাড়াও উভয় দলের খেলোয়াড়দের মাঝে স্মারক প্রদান করা হয়। উপস্থিত অতিথিরা খেলোয়াড়দের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

পরবর্তীতে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৯৯৩ ব্যাচের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন,আব্দুল্লাহ আল মামুন, নাজমুল হুদা (মিঠু),তানভীর মাহমুদ পলাশ,অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম ও সাইয়াদ এ.জেড মোরশেদ আলী। ১৯৯৪ ব্যাচের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, সভাপতি শরীফ আহমেদ,সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন (ইমন) এবং সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক দেবাশীষ দাস ও মনিরুজ্জামান (শামীম)।

সবমিলিয়ে এই প্রীতি টি-২০ ক্রিকেট ম্যাচ শুধু একটি খেলা নয় এটি ছিল স্মৃতির পুনর্মিলন,বন্ধুত্বের পুনর্জাগরণ এবং ঈদের আনন্দকে বহুগুণে বাড়িয়ে তোলার এক অনন্য আয়োজন।






