সিরাজগঞ্জ সংবাদ প্রতিবেদক:
সুস্থ ও কর্মক্ষম জাতি গঠনে সঠিক পুষ্টি জ্ঞান এবং নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব তুলে ধরতে সিরাজগঞ্জে গণমাধ্যমকর্মীদের অংশগ্রহণে “সুস্বাস্থ্যের জন্য ফলিত পুষ্টি বিষয়ক প্রশিক্ষণ” অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশ নেন।

বুধবার (২০ মে ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট (বারটান) সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্যোগে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপতি রায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে অপুষ্টি, ভেজাল খাদ্য এবং অনিরাপদ খাদ্যাভ্যাস মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ পর্যন্ত সবাইকে সঠিক পুষ্টি সম্পর্কে সচেতন করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সাংবাদিকরা যদি পুষ্টি বিষয়ক তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরেন, তাহলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু পেট ভরানোর জন্য খাবার গ্রহণ করলেই হবে না, শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী এবং বয়স্কদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
বারটান সিরাজগঞ্জের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আব্দুল মজিদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুন অর রশিদ খান হাসান, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ইন্না, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ দেওয়ান রাজু এবং কোষাধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম রইসী।

বক্তারা বলেন, বর্তমানে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ফাস্টফুড ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি ঝোঁক বাড়ায় শিশু-কিশোরদের মধ্যে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাই পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিকভাবে পুষ্টি সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।
প্রশিক্ষণে জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রায় ৬০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় শিশু, কিশোর-কিশোরী, গর্ভবতী নারী, দুগ্ধদানকারী মা ও বয়স্কদের পুষ্টি চাহিদা, নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, সুষম খাদ্যের গুরুত্ব, খাদ্য সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি এবং দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় পুষ্টিকর খাবার অন্তর্ভুক্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এ সময় প্রশিক্ষকরা খাদ্যে ভেজাল শনাক্তকরণ, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবারের ক্ষতিকর প্রভাব, মৌসুমি ফল ও শাকসবজির পুষ্টিগুণ এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের নানা দিক তুলে ধরেন। সাংবাদিকরাও বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামতের মাধ্যমে কর্মশালাকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।
কর্মশালায় অংশ নেওয়া সাংবাদিকরা বলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতা বাড়ায় না, বরং গণমাধ্যমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝেও স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে সহায়তা করে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।






