মোঃ হোসেন আলী (ছোট্ট) :
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কৃতিসন্তান, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ ও ডেটা সায়েন্টিস্ট ড. মোক্তার হোসেন কর্তৃক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত ‘আইসিটিইআর গুরু’ ও ‘ড. মোক্তার একাডেমি’র বাংলাদেশ শাখার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে।
শনিবার (১৯ জুলাই ২০২৫ খ্রি:) সিরাজগঞ্জের ডিএমএ মাল্টিপারপাস হলরুমে এক জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একই সাথে জেলার স্কুল-কলেজের আইসিটি শিক্ষকদের জন্য ডিজিটাল আসক্তি প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল আইসিটিইআর গুরু প্রজেক্ট-১০১’ এর ঘোষণা। একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ড. মোক্তার হোসেন এই প্রকল্পের আওতায় আগামী পাঁচ বছরে চলনবিল অঞ্চলের ১০১ জন মেধাবী শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (ফুলফান্ড স্কলারশিপ) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মোক্তার হোসেন নিজেই, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর বিভাগ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক এবং বিশ্বের প্রথম বাংলা প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ‘স্ন্যাপবাংলা’ (SnapBangla)-র উদ্ভাবক। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, চলনবিলের সন্তান হিসেবে এই অঞ্চলের মেধাবীদের জন্য বিশ্বমানের সুযোগ তৈরি করা আমার স্বপ্ন। প্রজেক্ট-১০১ সেই স্বপ্নেরই একটি অংশ, যার মাধ্যমে আমাদের তরুণেরা বিশ্বের মঞ্চে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ পাবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি ও প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের খ্যাতনামা আইসিটি লেখক ও ১১০টির বেশি গ্রন্থের প্রণেতা, সিসটেক পাবলিকেশনসের প্রকাশক জনাব মাহবুবুর রহমান। তিনি ‘ডিজিটাল আসক্তি প্রতিরোধে করণীয়’ বিষয়ে মূল্যবান বক্তব্য উপস্থাপন করেন, যা উপস্থিত শিক্ষকদের জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী ছিল।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অতিশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক।মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশ নেন তাড়াশ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ জাফর ইকবাল এবং সিসটেক পাবলিকেশনসের বিপণন ও মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান মোঃ আতিকুর রহমান আতিকসহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইসিটি শিক্ষকবৃন্দ।এই উদ্যোগের ফলে চলনবিল অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক বিশ্বমানের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো বলে মনে করছেন স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সুধী সমাজ।






