মোঃ হোসেন আলী (ছোট্ট) : সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিক্টোরিয়া স্কুলের পুকুরপাড়ের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা একটি গরুর খামার এলাকাবাসীর জন্য নরক যন্ত্রণা ডেকে এনেছে। প্রতিদিনের দুর্গন্ধ, বর্জ্য দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তবুও পৌর প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে পুরো এলাকা আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা এই খামারে প্রতিদিন কয়েক ডজন গরু রাখা হয়। গরুর মল-মূত্র, গোবর ও অন্যান্য বর্জ্য খোলা জায়গায় জমে তীব্র দুর্গন্ধ সৃষ্টি করছে। গরমের সময় এ দুর্গন্ধ আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দিনের বেলায় তো বটেই, রাতেও ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে থাকা সত্ত্বেও দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না।এলাকার এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা দিনের পর দিন এই পরিবেশে বসবাস করছি। ঘরে বাচ্চাদের পড়াশোনার কোনো পরিবেশ নেই, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। শিশুদের ঘন ঘন জ্বর ও অ্যালার্জির সমস্যা হচ্ছে।”পুকুরের পানি মারাত্মকভাবে দূষিত, স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে খামার থেকে বর্জ্য সরাসরি ভিক্টোরিয়া স্কুলের পুকুরে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একসময় পুকুরটি স্থানীয়দের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহৃত হতো এবং এখানে মাছ চাষ হতো। বর্তমানে পুকুরের পানি পচা গোবরের দুর্গন্ধে অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়েছে।পানিতে বর্জ্য মিশে মশা-মাছির প্রজনন ব্যাপকভাবে বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের দূষিত পানির কারণে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস, চর্মরোগসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।অবৈধ খামারের পেছনে প্রভাবশালীদের মদদ?
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের মদদ ছাড়া আবাসিক এলাকায় এত বড় খামার পরিচালনা সম্ভব নয়। অনুমোদন ছাড়াই খামারটি চালু করা হয়েছে। প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার নীরব সমর্থন কিংবা অবহেলার কারণেই এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।একজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “এভাবে মানুষ বসবাস করতে পারে না। আমরা শান্তিপ্রিয়, তাই সরাসরি সংঘাতে যাই না। কিন্তু এর মানে এই নয় যে আমাদের স্বাস্থ্য নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলবে।”পৌর প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন পৌর প্রশাসন এখনো পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। স্থানীয়দের মতে, বারবার মৌখিকভাবে অভিযোগ করা হলেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। এমনকি পরিবেশ অধিদফতর থেকেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত) অনুসারে আবাসিক এলাকায় এমন দূষণকারী স্থাপনা চালু রাখা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনে উল্লেখ রয়েছে,মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর যে কোনো স্থাপনা অবিলম্বে বন্ধ করা এবং দায়ীদের শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে প্রশাসনের। এলাকাবাসীর দাবি: খামার অবিলম্বে সরাতে হবে এলাকাবাসী জানিয়েছেন, না হলে এলাকা বাসীর পক্ষ থেকে মানববন্ধন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে।
এ খামার যদি দ্রুত সরিয়ে না নেওয়া হয়, তবে তারা বাধ্য হয়ে কঠোর হবেন। এক অভিভাবক বলেন, “সন্তানদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে রেখে কেউ অবৈধভাবে ব্যবসা করবে, এটা কেউ মেনে নেবে না।” অন্যদিকে কিছু তরুণ সমাজকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যাম্পেইন চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা মনে করছেন, গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি ভাইরাল হলে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।সরকারের উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপের দাবি এলাকাবাসী তাই এ বিষয়ে
সিরাজগঞ্জ পৌরসভার পৌর প্রশাসক, পৌর নির্বাহী ও জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদফতরের প্রতি অবিলম্বে হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষায়, শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংলগ্ন এলাকায় যদি এভাবে পরিবেশ ধ্বংস হয়, তবে এটি শুধুমাত্র স্বাস্থ্যঝুঁকিই নয়, পুরো শহরের জন্য লজ্জাজনক।






