ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ -২ আসনে ধানের শীষের পক্ষে এবার নিজ থেকেই আমাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে!
নব্বইয়ের গণআন্দোলনে স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর থেকে সিরাজগঞ্জ সদর আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে দলীয়ভাবে আমার উপর অর্পিত যে সকল দায়িত্ব সততা ও নিষ্টার সাথে একাগ্র চিত্রে পালন করেছি তার অতি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নে উল্লেখ করছি।
(১) ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ সদর ২ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন প্রবীণ জননেতা মরহুম মির্জা মোরাদুজ্জামান।সেই নির্বাচনে বাগবাটি ইউনিয়নে জেলা বিএনপি কর্তৃক গঠিত তিন সদস্য বিশিষ্ট বিগ্রেডে আমার সাথে অন্য দুইজন ছিলেন তংকালীন তুখোড় ছাত্রদল নেতা ভিপি অমর কৃষ্ণদাস ও জেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য শাহীনুর ইসলাম খান শাহীন।
এ ছাড়া নির্বাচেনর দিন হোসেনপুর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,সালেহা ইসহাক সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ও বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করি।
নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী বিজয় লাভ করেন। বিএনপি সরকার গঠন করে।আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হন দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী ও মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় মহিলা প্রধানমন্ত্রী।
(২)১৯৯৬ সনের ১৫ ফেব্রুয়ারী তারিখে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সিরাজগঞ্জ সদর ২ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন। আওয়ামী লীগ জাতীয় পাটির দুই গ্রুপ,জামায়াতে ইসলাম সহ সকল বাম দল ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন প্রতিরোধে আন্দোলন করে। আমি জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলাম। নেতাকর্মীদের নিয়ে সদর উপজেলা পরিষদ এলাকা বিরোধী দলের আন্দোলন প্রভাবমুক্ত রাখি এবং এতে নির্বিঘ্ন বেগম খালেদা জিয়ার বিজয়ের ফলাফল ঘোষণা করা হয়
নির্বাচেন পরের দিন আওয়ামী লীগ, উভয় জাতীয়পাটি,জামায়াতে ইসলাম সহ বাম দলগুলো উপজেলা অফিসে হামলা করতে আসলে লাল মসজিদের নিকট আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলি। লাগাতার তিনদিনের প্রতিরোধে আমি সহ আমার এলাকার নারী পুরুষ সহ অনেকে আহত হন। আমার মাথায় পাথরের ঢেল লাগগে মাথা ফেটে যায়,১২টি সেলাই দিতে হয়। বিএনপি বিজয় লাভ করে এবং বেগম খালেদা জিয়া দ্বিতীয় বারের মতন প্রধানমন্ত্রী হয়ে সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাশ করেন।
(৩) ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ সদর ২ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন শিল্পপতি শামসুল আলামিন। ৯১ সনের মতো এই নির্বাচনেও জেলা বিএনপি কর্তৃক বাগবাটি ইউনিয়নে তিন সদস্য বিশিষ্ট বিগ্রেডে আমার সাথে ছিলেন ছাত্রদলের ভিপি অমর কৃষ্ণদাস ও যুবদল নেতা শাহিনুর ইসলাম খান শাহীন। এছাড়া আমি শিয়ালকোল ইউনিয়নের শিবনাথপুর গ্রাম সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করি। নির্বাচনের দিন হোসেনপুর উত্তর ও দক্ষিণের সকল কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করি। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হয়। আওয়ামী লীগের মোঃ নাসিম জয় লাভ করে। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে।
(৪) ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ ২ সদর আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন জনাব ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ভাই। শিয়ালকোল ইউনিয়ন,হরিপুর ইউনিয়ন ও সয়দাবাদ ইউনিয়নে জেলা বিএনপি কর্তৃক নির্বাচন পরিচালনা বিগ্রেডে আমি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করি। এই তিন ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনার সমন্বিত বিগ্রেডে বিএনপির পক্ষে ছিলেন এডভোকেট মোকাদ্দেছ আলী,আনিসুজ্জামান পাপ্পু, মরহুম নাজমুল হক বাবলা,জেলা যুবদলের প্রতিনিধি আমি, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানা, সিরাজগঞ্জ সরকারী কলেজের সাবেক জিএস সাইদুর রহমান বাচ্চু, সিরাজগঞ্জ সরকারী কলেজের সাবেক এজিএস আবু সাইদ ও ইসলামিয়া সরকারি কলেজের সাবেক এজিএস মিলন ইসলাম খান।
আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ নাসিমকে পরাজিত করে বিএনপি প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ভাই বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। বিএনপি সহ চারদলীয়জোট নিরংকুশ বিজয় লাভ করে। আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তৃতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। জনাব ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ভাই প্রতিমন্ত্রী হয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান
(৫)
২০০৮ সনে ২৯ ডিসেম্বর তারিখে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ ২ সদর ও কামারখন্দ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ভাইয়ের সহধর্মিণী রুমানা মাহমুদের নির্বাচনী ক্যাম্পিংয়ে মিডিয়া সেলের দায়িত্ব পালন করি। আমি তখন সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। সেই কারণে ভোট গননা ও ফলাফল ঘোষণার সময় সদর উপজেলা ও জেলা প্রশাসকের অফিসে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করি।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী হেনরি তালুকদারকে পরাজিত করে সারাদেশে বিএনপির ভূমিধ্বস পরাজয়ের মধ্যেও রুমানা মাহমুদ বিজয় লাভ করেন।
( ৬)
২০১৪ সনের ৫ জানুয়ারি ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি সহ আন্দোলনর সকল দল বর্জন করে। আমি নেতাকর্মীদের সাথে দলীয় কর্মী ও গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে ভুমিকা পালন করি।
এই নির্বাচনে ১৫৩ আসনে প্রার্থীগন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছিল। ১৪৭ আসনে নামকাওয়াস্তে নির্বাচন হয়। আওয়ামী লীগ জোর করে ক্ষমতায় থেকে আবার ক্ষমতায় আসে।
(৭)
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন ছিল দিনের ভোট রাতে। এতে নির্বাচনের দিন সকালেই সিরাজগঞ্জ ২ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী রুমানা মাহমুদ নির্বাচন বর্জন করেন।
এবারো আমি রুমানা মাহমুদের নির্বাচনের মিডিয়া সেলের দায়িত্ব পালন করি এবং তার সাথে ঝুঁকি নিয়ে সকল প্রচারণায় অংশ নেই।
( ৮)
০৭ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিলো ডামি নির্বাচন।
এই নির্বাচন বিএনপি সহ আন্দোলনরত দলগুলো বর্জন করে।
ডামি নির্বাচন বর্জনে গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে ও বিএনপির মিডিয়া সেলের আহবায়ক হিসেবে আমার ভুমিকা সেই সময় সকলেই প্রশংসা করেছেন।
(৯)
বৈষম্যেবিরোধী ছাত্র গণআন্দোলন গণ-অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক কর্মী ও গণমাধ্যমেকর্মী হিসেবে রাজপথে নিজের সামর্থের সব কিছু করেছি।
(১০)
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ ২ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী জনাব ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ভাইয়ের নির্বাচন পরিচালনায় দল কর্তৃক আমাকে কোন দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তাত্ত্বেও আমার রাজনৈতিক চেতনা ও বিশ্বাস থেকে মহান আল্লাহপাককে হাজিরনাজির করে ঈমানের সাথে দৃপ্ত ঘোষণা করছি,রাজনৈতিক কর্মী ও গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ ২ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী জনাব ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ভাইয়ের নির্বাচনে স্বপ্রণোদিত হয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করছি,করে যাবো।
ইনশাআল্লাহ।
সবার আগে বাংলাদেশ।
মোঃ হারুন অর রশিদ খান হাসান
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি
সভাপতি সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাব
স্টাফ রিপোর্টার দৈনিক দিনকাল
জেলা প্রতিনিধি বাংলাভিশন
জেলা সংবাদদাতা বাসস
সম্পাদক ও প্রকাশক
দৈনিক আমার সিরাজগঞ্জ।






