শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
সিরাজগঞ্জে লেনদেন সংক্রান্ত জেরে ছুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যু !
বেলকুচিতে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ
প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সিরাজগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মাঝে ২ হাজার চারা বিতরণ
পঞ্চগড় সদরে মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত-১,গুরুতর আহত ২
সংবাদ প্রকাশের জেরে হুমকি,নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা সাংবাদিক শরীফুল ইসলাম ইন্নার
সিরাজগঞ্জে হোসেনপুর রানার্স ক্লাবের আয়োজনে জমজমাট আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল প্রীতি ফুটবল ম্যাচ
মৃত্যুর ৫১ বছর পরও অবিস্মরণীয় সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ
সিরাজগঞ্জের রায়পুরে রেল জংশন প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানববন্ধন
হাতিরঝিলে পরিচ্ছন্নতা অভিযান: গ্রীন ও ক্লিন ঢাকার বার্তা দিল রাজউক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক-কর্মচারী দল
কাজিপুরে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

রাজশাহীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে স্বস্তি ফিরেছে

ফটোকার্ড

রাজশাহী প্রতিনিধি : মহানগরী ও এর আশেপাশের উপজেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ কয়েক দিনের জ্বালানি অস্থিরতা কাটিয়ে অবশেষে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালক বা বাইকারদের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি। গত কয়েক দিন যেখানে তেলের জন্য পাম্পগুলোতে মাইলের পর মাইল দীর্ঘ সারি দেখা গিয়েছিল, আজ সেখানে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। দীর্ঘ লাইনের ধকল ছাড়াই এখন কয়েক মিনিটে মিলছে চাহিদামতো ডিজেল ও অকটেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজশাহীর শালবাগান, কুমারপাড়াসহ বেশ কিছু পাম্প ঘুরে দেখা গেছে পেট্রোল পাম্পগুলোতে সেই ভিড় আর নেই। পাম্পের প্রবেশ মুখগুলো এখন যানজটমুক্ত। পাম্পের ডিসপেন্সার ইউনিটের সামনে মোটরসাইকেলের ছোট ছোট দুই-তিনটি সারি থাকলেও তা দ্রুতই শেষ হয়ে যাচ্ছে। সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় পাম্প কর্তৃপক্ষও দ্রুত সেবা দিতে সক্ষম হচ্ছে।

বাইক চালক আমিন হোসেন বলেন, গত কিছুদিন ধরে তেলের জন্য যে হাহাকার ছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। একবার এক লিটার অকটেনের জন্য শিরোইল এলাকার একটি পাম্পে আমাকে প্রায় ৪০ মিনিট রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল। কোন কোন ক্ষেত্রে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টাও দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। আজ সেই একই পাম্পে এসে দেখলাম কোনো জটলা নেই। দুই মিনিটের মধ্যেই তেল নিয়ে বের হতে পারলাম। এটা সত্যিই বড় স্বস্তির।

নগরীর উপশহর এলাকার বাসিন্দা এনজিও কর্মী রাকিব বলেন, কাজের প্রয়োজনে প্রতিদিন আমাকে বাইক নিয়ে বের হতে হয়। তেলের সংকটের সময় ভয়ে ছিলাম কখন বাইক বন্ধ হয়ে যায়। অনেক পাম্পে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। আজ পাম্পগুলো আবার সচল দেখে ভালো লাগছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় এখন আর বাড়তি সময় নষ্ট হচ্ছে না।

ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি শামীম বলেন, আমাদের বেশি ডিউটি করা লাগে। লাইনে দাঁড়ানো খুব কষ্টকর ছিল। এখন অল্প সময়েই তেল পাচ্ছি। কষ্টও কমে গেছে। 

মহানগরীর বাসিন্দা সোহরাব হোসেন বলেন, তেল নিয়ে যাতে আর কেউ সিন্ডিকেট করতে না পারে সেজন্য সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। 

নগরীর কুমারপাড়া এলাকার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার বলেন, ডিপো থেকে তেলের লরি আসার পরিমাণ বেড়েছে। গত সপ্তাহে সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি থাকায় আমরা গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী তেল দিতে পারিনি। এ কারণেই ভিড় জমে গিয়েছিল। এখন মজুদ পর্যাপ্ত। প্রশাসন থেকেও নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। 

জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় কেবল বাইকার নয়, এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহনেও। ট্রাক চালকরা জানান, তেলের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে না হওয়ায় গন্তব্যে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে না। এতে করে বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ চেইনও স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ জানায়, জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে পাম্পগুলোতে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। কোনো পাম্পে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজশাহীর সাধারণ মানুষ এবং বাইকারদের প্রত্যাশা, তেলের এই নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ আগামীতেও বজায় থাকবে। যাতে প্রাত্যহিক যাতায়াত এবং কর্মব্যস্ততায় কোনো বিঘ্ন না ঘটে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, এখন রাজশাহীর পাম্পগুলোতে আর সেভাবে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে না। আশা করছি আরও স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০