মোঃ হোসেন আলী (ছোট্ট) :
যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে পবিত্র শবে বরাত পালন করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। রবিবার দিবাগত রাত ছিল পবিত্র শবে বরাত। এদিন বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও ক্ষমা লাভের আশায় ইবাদত-বন্দেগিতে নিমগ্ন থাকেন। ফারসি ‘শবেবরাত’ শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। তবে হাদিসের পরিভাষায় এই রাত ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বা মধ্য-শাবানের রজনী হিসেবে পরিচিত।

হিজরি সালের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি মুসলিম উম্মাহ পালন করে সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে।
গত মঙ্গলবার (০৩ জানুয়ারি ২০২৬) বাদ মাগরিব হতে সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় মসজিদে এবং পৌর কবরস্থান মালসাপাড়া ও রহমতগঞ্জ পৌর কবরস্থানে ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা ইবাদত বন্দীগীতে মগ্ন থাকেন। রহমতগঞ্জ পৌর হাফিজিয়া কবরস্থান মাদ্রাসায় ১৭ জন কোর আনের পাখিদেরকে সমানী পাগড়ী প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট ও বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইদুর রহমান বাচ্চু। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে লাইলাতুল বরাত সন্মন্ধে দিকনির্দেশনা মূলক বক্তব্য রাখেন হাফিজ মাওলানা হযরত আলী। এছাড়াও বিশ্বজয়ী হাফেজ ক্বারী ও আর রহমান একাডেমি ঢাকা, প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাফেজ ক্বারী তানভীর আহমাদ। বিগত জীবনের পাপ মার্জনা এবং ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করেছেন মসজিদের পেশ ইমামও খতিবগণ।

উল্লেখ্য ঃ মর্যাদাপূর্ণ এই রাতে মহান আল্লাহ তাআলা বান্দাদের জন্য তাঁর অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন। মহিমান্বিত এই রাতে সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পরম করুণাময়ের অনুগ্রহ লাভের আশায় বেশি বেশি নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জিকিরে মগ্ন ছিলেন। অনেকে রোজা রেখেছেন। দান-খয়রাত করছেন। ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি হরেক রকমের হালুয়া, ফিরনি, রুটিসহ উপাদেয় খাবার তৈরি করা হয়। এসব খাবার বিতরণ করা হয় আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও গরিব-দুঃখীর মধ্যে। সন্ধ্যার পরে অনেকে যান কবরস্থানে। চিরনিদ্রায় শায়িত আপনজনদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।






