সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিন্ডিকেট ভাঙার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান
শাহজাদপুরে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডক্টর এম এ মুহিত
বগুড়া যাওয়ার পথে সিরাজগঞ্জে গণমানুষের ভালবাসায় সিক্ত হলেন- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সিরাজগঞ্জ-রাজশাহী রুটে জেনিন ও এসআই পরিবহন চলাচল নিয়ে-মালিক-শ্রমিকদের দ্বন্দ্ব !
ভিক্টোরিয়া হাই স্কুলের এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
পাবনা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ বিশেষ অভিযানে অস্ত্রসহ গ্রেফতার-১
ভাঙ্গুড়া উপজেলায় মাদকসেবীকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড সহ অর্থদণ্ড ভ্রাম্যমাণ আদালতের
ঈদুল আযহা সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে মহাসড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
সিরাজগঞ্জে বাংলাদেশ স্কাউটস,রোভার অঞ্চলের সিনিয়র রোভারমেট ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত
ঈদ বাড়তি আনন্দ,বড়লেখার ১৮ বাগানের ৪,৬৬৮ শ্রমিক পাচ্ছেন প্রায় ৪ কোটি টাকার বিশেষ ভাতা

১৭ মামলা ও ৬ বারের কারাবরণকারী জনপ্রিয় নেতা সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে তৃণমূল বিএনপির আস্থার প্রতীক ভিপি আয়নুল হক

শেখ মোঃ এনামুল হক,সিরাজগঞ্জ ব্যুরো চীফ : ১৭ টি মামলা ও ৬ বারের কারাবরণকারী সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে জনপ্রিয়তার শীর্ষে তৃনমূলের আস্হার প্রতীক বিএনপি নেতা ভিপি আয়নুল হক ।  পিতা মৃত আলহাজ্ব মফিজ উদ্দিন শেখ, বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে চান্দাইকোনা ইউনিয়ন জাগো দলের সদস্য। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রচন্ড ভক্ত একজন মানুষ ছিলেন। মা হাজেরা খাতুন বাবার মতই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউ রহমান এর একজন প্রচন্ড রকমের শুভাকাকাঙ্খী ছিলেন। সেই সময়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের  বিভিন্ন সময়ে রান্না করে খাওয়াইতেন। এভাবে মা-বাবার অত্যন্ত ভালোবাসার দল হিসেবে আস্তে আস্তে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বিএনপির প্রতি ভালোবাসায় ছাত্রজীবনেই আসক্ত হয়ে পড়ে  ভিপি আয়নুল হক। পরবর্তী কলেজ জীবনে এসে সরাসরি ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িত হয়ে পড়েন তিনি। তার বিরামহীন সাহসী কর্মকান্ডে জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে এতে প্রতিপক্ষ ছাত্রলীগ ইর্ষান্বিত হয়ে অনেকবার হত্যার উদ্দেশ্যে নির্মমভাবে আঘাত করে, বেশিরভাগ সময় তাদের আঘাতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। এরকম একসময় ছাত্রলীগের বেদম প্রহার এবং ইট দিয়ে মাথা থেঁতলিয়ে আহত করে। দীর্ঘ সময় অজ্ঞান হয়ে থাকেন তিনি। ভিপি আয়নুল হক এর পরিবার, শুভাকাকাঙ্খী ও দলের সহকর্মীগণ মৃত ভেবে মাইকিং করে জানাজার প্রস্তুতি নিয়েছিল।। বিষয়টি তৎকালীন বিএনপির রাজনীতিবিদ বগুড়ার এ্যাডভোকেট মাহবুর রহমান, জহুরুল ইসলাম, রেজাউল করিম বাদশা, সাইফুল ইসলাম, আবু হেনা, হারেজ, খোকা, বাবলু, নিলু ও সিরাজগঞ্জের মির্জা মুরাদুজ্জামান, সাইফুল ইসলাম শিশির, মোকাদ্দেস আলী,সাইদুর রহমান বাচ্চু, নাজমুল হাসান তালুকদার রানা, ভিপি শামীম খান ও অমর সহ আরো অনেকে চিকিৎসায় সহযোগিতা করেছিলেন। এই অবস্থার মধ্যেও তিনি ছাত্রদলের রাজনৈতিক কর্মকান্ড থেকে পিছুপা হয়নি। এভাবে সুনামের সাথে দলের জন্য কাজ করায় সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের ভালোবাসার এক অনন্য শিখরে উঠেন তিনি। পরপর তিনবার বিপুল ভোটে চান্দাইকোনা কলেজে ভিপি নির্বাচিত হন। অতঃপর ১৯৯০ এর এরশাদ বিরোধী আন্দোলন এবং মইনুদ্দিন ফখরউদ্দিন এর শাসনামলে বেগম জিয়া ও তারেক রহমানকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল মিটিং, পোস্টার, দেয়াল লিখনের জন্য গ্রেফতার, কারাবরণ, তিন বছরের জেল, ছয় মাস পরে জামিনে মুক্তি পান ভিপি আয়নুল হক। বেগম জিয়ার নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ার আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়েন তিনি। পরবর্তীতে ফ্যাসিস্ট হাসিনার ১৭ বছরের শাসনামলে চরম প্রতিকলতার মধ্যে মামলা ও নির্যাতনের খড়গ মাথায় নিয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল, যুবদল এর সভাপতি এবং রায়গঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৪ এর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে বিএনপির সমর্থনে দোয়াত কলম প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করেন তিনি।  আওয়ামীলীগের চরম পক্ষপাতিত্ব, ভয়ভীতি, নির্বাচনী প্রচারে সশস্ত্র হামলা, ব্যালট ছিনতাই, ভোটকাটা প্রশাসন ও ছাত্রলীগের নানা কারসাজি পরেও বিপুল ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন ভিপি আয়নুল হক। উপজেলা চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় সিরাগঞ্জ ডিসি অফিস থেকে গ্রেফতার করে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয় তাকে। এবং মিথ্যা রাজনৈতিক মামলায় জেলখানায় পাঠানো হয়। শুধু তাই নয় ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের তারিখের মহাসম্মেলন সহ বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা সম্মেলন সফল করায় ভিপি আয়নুল হক এর উপর নির্যাতনের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয় স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ। এজন্য বরাবরের মত এবারও ঘরবাড়ি খাওয়া দাওয়া ছেড়ে পলাতক জীবনযাপন করতে হয়। এরকম পলাতক অবস্থায় ফ্যাসিস্ট বিদায় নেওয়ার কিছুদিন আগেও নিজ উপজেলা টিকতে না পেরে পার্শ্ববর্তী উপজেলা শেরপুর থেকে আন্দোলনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কর্মসূচি নিয়ে বৈঠক চলাকালীন অবস্থায় র ্যাব এর হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন। এবং রিমান্ডে থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদের নামে শরীরের গোপন স্থানে মরিচের গুড়া ছিটিয়ে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। বর্তমানের বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা কর্মসূচি দেশের আপামর জনসাধারণের মাঝে প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে দলের ভবিষ্যত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনমত তৈরী এবং জনগণের সমর্থন নিয়ে দল ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত করে আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করে বিএনপির রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্যে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ভিপি আয়নুল হক। রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও সলঙ্গার মাটি ও মানুষের খাদেম হিসেবে কাজ করার অকুণ্ঠ জন সমর্থন অর্জন করেছেন তিনি।
এমন একজন ১৭টি মামলা মাথায় নিয়ে ৬বার কারাবরণকারী বিএনপি নেতা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ভিপি আয়নুল হক। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, মাঠ পর্যায়ে সক্রিয়তা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতায় নিবেদিত এই নেতাকে ঘিরেই এখন এলাকাজুড়ে চলছে জোরালো আলোচনা।
ছাত্র জীবন থেকে ছাত্রদলের বিভিন্ন পদ পদবীতে ও ছাত্রদল থেকে চান্দাইকোনা কলেজে ৩বারের নির্বাচিত ভিপি, রায়গঞ্জ উপজেলা যুব দল, রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং  সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতার প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন দিন দিন আরও জোরালো হচ্ছে।
সদা বিনয়ী, শালীন আচরণে অভ্যস্ত এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে সমাজের নানা স্তরের মানুষের কাছে পরিচিত একজন মানবিক নেতা হিসেবে। ভিপি আয়নুল হক রাজনীতিতে পরিচিত একজন কর্মীবান্ধব ও জনবান্ধব নেতা। ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তিনি রায়গঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে সংগঠনের একজন নির্ভরযোগ্য নেতায় পরিণত করেন। ২০১৩ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালীন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে কারাবরণ করেন।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভাষায় “তিনি দলের ভালো সময়ের নয়, খারাপ সময়েও ছিলেন মাঠে। পুলিশি হয়রানি, মামলা ও হামলার মুখেও রাজনীতি ছাড়েননি।”
রাজনীতির পাশাপাশি ভিপি আয়নুল হক নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন নানা সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও তিনি বিপুল ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, যা তার জনপ্রিয়তার একটি বড় প্রমাণ। চেয়ারম্যান থাকাকালে শিক্ষা, অবকাঠামো এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশায় পাশে দাঁড়িয়েছেন নিরলসভাবে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মতে, ভিপি আয়নুল হক ছাড়া সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির পক্ষ থেকে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী নেই। করোনাকালে শতাধিক পরিবারের মাঝে খাদ্য বিতরণ করেছেন তিনি।
প্রতিবছর শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ,অসহায় রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা,গরিব শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ,বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থানে আর্থিক সহায়তা এই কার্যক্রমগুলো তার নিজের অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে, কোনো দাতাসংস্থা বা প্রচারের উদ্দেশ্যে নয়এটাই তার আলাদা বিশেষত্ব।
দল এখনো সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত না করলেও, তৃণমূল ও সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশ্য বিএনপি যেন এমন একজনকে প্রার্থী করে যিনি সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধ, এবং জনগণের আস্থা রাখেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা এবং তৃণমূলের শক্তিশালী সংগঠনিক ভিত্তি আগামী নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে ভোটের চিত্র পাল্টে দিতে পারে।
ইতোমধ্যে ভিপি আয়নু হক গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা ও এলাকাভিত্তিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনী মাঠে তিনি এখন সবচেয়ে সংগঠিত ও সক্রিয় প্রার্থীদের একজন।
সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে ভিপি আয়নুল হক আজ শুধু একটি নাম নয়, তৃণমূলের ভালোবাসা, আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতীক।
দল যদি সময়োচিত ও জনমুখী সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে এই নেতার প্রার্থিতাই হতে পারে বিএনপির বিজয়ের নিশ্চয়তা।
ভিপি আয়নুল হক বলেন, “দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যদি আমার ওপর আস্থা রাখেন, তাহলে জীবন বাজি রেখে জনগণের পাশে থাকব। মনোনয়ন পেলে জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবেন বলে বিশ্বাস করি। আমার রাজনীতি ব্যক্তিস্বার্থের জন্য নয়। আমি মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই, তাদের মুখে হাসি দেখতে চাই। যদি দল আমার ওপর আস্থা রাখে, আমি ইনশাআল্লাহ সিরাজগঞ্জ-৩ থেকে বিজয়ী হব এবং উন্নয়নের রোল মডেল গড়ে তুলব।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০