মোঃ ইউসুব আলী,রাজশাহী কলেজ :
১০ সেপ্টেম্বর,রাজশাহী কলেজ অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ফরম পূরণ ও সেশন চার্জ কমানোর দাবিতে রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি ও সেশন চার্জের কারণে তারা মারাত্মক সমস্যায় পড়েছেন। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পক্ষে এত টাকা পরিশোধ করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় তারা যৌক্তিক সমাধানের দাবিতে অধ্যক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেন।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি তুলে ধরেন—
১. ফরম পূরণের ফি যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে নামিয়ে আনা।
২. সেশন চার্জ কমিয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব হার নির্ধারণ।
৩. প্রয়োজনে আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করা।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুমন বলেন, “আমাদের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার ফরম পূরণের তারিখ ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু যে পরিমাণ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে, তা আমাদের জন্য অনেক বেশি। তাই আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ স্যারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানাবেন। আমরা জানিয়েছি যে এ বিষয়ে অবশ্যই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিবেন এবং যদি কার্যকর না হয় তাহলে আমরা সবাই মিলে একটা অবস্থান কর্মসূচিতে যাব এবং এর সমাধান চাইব।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নূর সালাম বলেন, “অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে প্রথমে সেশন চার্জ বাবদ ২৭৬৬ টাকা দিয়েছি। এখন আবার ফরম ফিলাপের জন্য ৪১০৫ টাকা দিতে হচ্ছে। মোট দাঁড়াচ্ছে ৬৮৭১ টাকা।রাজশাহী কলেজের এই অযৌক্তিক ফি বৃদ্ধি সাধারণ মধ্যবিত্ত ও গরিব শিক্ষার্থীদের জন্য ভীষণ কষ্টদায়ক। আমরা দৃঢ়ভাবে বলছি- হঠাৎ করে শিক্ষার্থীদের উপর এমন বাড়তি বোঝা চাপানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।আমাদের দাবি, অবিলম্বে ফি কমিয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।না হলে শিক্ষার্থীরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
এ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মুঃ যহুর আলী বলেন, ফরম ফি এবং সেশন চার্জ মূলত সম্পূর্ণভাবেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কার্যালয় থেকে গৃহীত। আমাদের কলেজ কর্তৃপক্ষের আওতাভূক্ত সিদ্ধান্ত নয়। তাই শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা যত দ্রুত সম্ভব সেখানে যোগাযোগ করব এবং তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের অবগত করব






