ছাম্মি আহমেদ আজমীর:
সিরাজগঞ্জের পরিবেশ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সিরাজগঞ্জের বৃক্ষপ্রেমিক আবুল কালাম আজাদ। নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার তালবীজ রোপণ করে তিনি এখন সিরাজগঞ্জের সর্বমহলে প্রশংসায় ভাসছেন। জানা গেছে,আবুল কালাম আজাদ প্রায় দুই যুগ ধরে জেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে,খোলা মাঠ,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি জায়গায় নিয়মিত তালবীজ রোপণ করে আসছেন। তার এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন বজ্রপাত থেকে মানুষের জীবন রক্ষায় সহায়ক হবে অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে তালগাছ।
স্থানীয়রা জানান, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা ছাড়াই ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি এই মহতী কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেক সময় নিজের খরচে তালবীজ সংগ্রহ করে তা রোপণ ও পরিচর্যার ব্যবস্থাও করছেন তিনি। তার এই কর্মকাণ্ড দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন এলাকার যুবসমাজসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এ বিষয়ে আবুল কালাম আজাদ বলেন, “তালগাছ শুধু পরিবেশ রক্ষায় নয়,বজ্রপাত থেকে মানুষকে রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বজ্রপাত ঠেকাতে তালগাছ কার্যকরী ভূমিকা রাখে কারণ এর উচ্চতা ও কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য একে প্রাকৃতিক বজ্রনিরোধক -এ পরিণত করে, যা বজ্রপাতের বিদ্যুৎকে নিরাপদে মাটিতে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে, ফলে আশেপাশের মানুষ ও ফসলের ক্ষতি কমে আসে, যদিও এই পদ্ধতি নিয়ে কিছু বিতর্ক ও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। তালগাছের বাকলে থাকা কার্বনের পুরু স্তর এবং উচ্চতার কারণে এটি বজ্রপাতকে আকর্ষণ করে এবং বিদ্যুৎকে নিরাপদে মাটিতে নিয়ে যায়, যা অনেক ক্ষেত্রে <১>৩০-৫০% পর্যন্ত মৃত্যুহার কমাতে সহায়ক হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আমি চাই আমার কাজ দেখে আরও মানুষ এগিয়ে আসুক। সবাই মিলে গাছ লাগালে আমাদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ হবে। পরিবেশবাদী ও সচেতন মহল মনে করছেন,আবুল কালাম আজাদের মতো ব্যক্তিগত উদ্যোগই পারে সমাজে বড় পরিবর্তন আনতে। তার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে অনেকেই তাকে ‘বৃক্ষপ্রেমিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।সিরাজগঞ্জে সবুজায়নের এই নীরব বিপ্লব নিঃসন্দেহে পরিবেশ রক্ষায় এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।






