তারিকুল ইসলাম : অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে বেকারি পণ্য তৈরির অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ঘোষগাঁতি তে অবস্থিত আব্দুল্লাহ বেড্র এন্ড বিস্কুট এন্ড তুষার বেকারির বিরুদ্ধে। উপজেলার ব্যস্ততম ঘোষগাঁতি গ্রামে ঘনবসতি এলাকায় অবস্থিত আব্দুল্লাহ বেড্র এন্ড বিস্কুট এন্ড তুষার বেকারির দীর্ঘদিন ধরে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বিস্কুট, কেক, পাউরুটি ও অন্যান্য বেকারি পণ্য তৈরি করছে। কারখানাটির নেই ট্রেড লাইসেন্স, ফুড গ্রেডের লাইসেন্স, বিএসটিআই, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। এ অবস্থায় অবৈধভাবে ব্যাপকহারে বেকারি পণ্য তৈরি করে বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বেকারির ভেতরে চারদিকে নোংরা পরিবেশ, ময়লার স্তূপ ও স্যাঁতসেঁতে মেঝে দেখা যায়। ব্যবহৃত পাতিলে জমে থাকা কালচে পোড়া তেল দিয়ে বারবার পণ্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। পাশাপাশি কেমিক্যাল রং ও কৃত্রিম ফ্লেভার ব্যবহার করেও খাবার তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিভিন্ন হাঁস মুরগির খামারে বাচ্চা উৎপাদের জন্য ডিম ব্যবহার করা হয়। যেসব ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদিত না হয় সেই পচা ডিম ব্যবহার করা হয় এসব বেকারী কারখানায়। খামারিরা বাচ্চা উৎপাদনের সম্ভব্য তারিখ দিয়ে রাখে। ওই নির্দিষ্ট তারিখে বাচ্চা উৎপাদিত না হলে সেই নষ্ট ডিম বিক্রি করে দেয়া হয় বেকারী কারখানায়। এসব ডিম আসে বগুড়া, নাটোর, রাজশাহী থেকে।
জানা গেছে, শিশুদের খাদ্য তালিকায় বিস্কুট, কেক ও পাউরুটির মতো বেকারি পণ্যের চাহিদা বেশি। অনেক পরিবার প্রতিদিনের নাশতা কিংবা অতিথি আপ্যায়নের জন্য এসব পণ্য কিনে থাকেন। ফলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি এসব খাদ্যসামগ্রী ভোক্তাদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেকারির ভেতরে শ্রমিকরা গ্লাভস বা হাইজিন সামগ্রী ছাড়া, অপরিচ্ছন্ন পোশাকে পণ্য তৈরি করছেন। দেওয়াল ও ছাদে মাকড়সার জাল এবং খাদ্য সংরক্ষণের কোনো মানসম্মত ব্যবস্থা নেই। এসব পণ্য প্রতিদিন উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় প্যাকিং ছাড়াই খোলা অবস্থায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বি এন পি নেতা বেল্লাল এবং এলাকার অত্যন্ত প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় বেপরোয়াভাবে এসব কারবার হচ্ছে। ‘এই বেকারির পণ্য আমাদের শিশু থেকে শুরু করে সবাই খাচ্ছে। এভাবে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি হলে আমরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হব। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’ এ বিষয়ে আব্দুল্লাহ বেড্র এন্ড বিস্কুট এন্ড তুষার বেকারির কথিত মালিক বি এন পি নেতা বেল্লালের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের করা হলে তিনি সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে বলেন, এইগুলি আপনাদের দেখার বিষয় নয়, অতএব আপনারও যদি নিউজ করেন তাহলে আমি আপনাদেরকে দেখে নিব এই বলে উনি সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে রাগান্বিত হয়ে ফোন কেটে দেন।
উল্লাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব শারমিন আক্তার রিমা বলেন, ‘অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উক্ত বিষয়ে এলাকার জনসাধারণ এবং ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছে।






