ছাম্মি আহমেদ আজমীর :
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব বাসন্তী পূজা যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী কালীবাড়ি গোবিন্দ বাড়ি ও ধর্মসভা মন্দিরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ পূজা শেষে যমুনা নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটে।

পূজা উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে কয়েকদিনব্যাপী চলে নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান,পূজা-অর্চনা,আরতি ও প্রসাদ বিতরণ। ভক্তবৃন্দের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বিশেষ করে সন্ধ্যাকালীন আরতি ও ভক্তিমূলক সংগীত পরিবেশনা সকলের মাঝে এক ভক্তিময় পরিবেশ সৃষ্টি করে। বিজয়ার শেষদিনে ধর্মীয় রীতি অনুসারে শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রতিমা যমুনা নদীর তীরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পুরোহিতদের মন্ত্রোচ্চারণ ও ভক্তদের প্রার্থনার মধ্য দিয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এ সময় ভক্তদের চোখে-মুখে ছিল আনন্দ ও আবেগের মিশ্র অনুভূতি।

কালীবাড়ী গোবিন্দ বাড়ী ও ধর্মসভা মন্দির কমিটির সভাপতি বাবু জীবন বিশ্বাস ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুকুমার সরকার বলেন,প্রতি বছরের মতো এবারও আমাদের মন্দিরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বাসন্তী পূজা সম্পন্ন হয়েছে। আমরা সকলের সার্বিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজন আমাদের মন্দিরে অব্যাহত থাকবে।

বাসন্তী পূজা হলো বাঙালিদের ঐতিহ্যবাহী আদি দুর্গাপূজা, যা প্রতি বছর চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে (বসন্তকালে) পালিত হয়। শারদীয়া দুর্গোৎসবের মতো এটি অকালবোধন নয়, বরং শাস্ত্রীয় মতে দেবীর মূল আরাধনা। রাজা সুরথ মেধা মুনির পরামর্শে বসন্তকালে এই পূজা প্রথম শুরু করেছিলেন বলে জানা যায়। চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত এই পূজা চলে।

উল্লেখ্য: সামগ্রিকভাবে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও উৎসবমুখর পরিবেশে বাসন্তী পূজার সফল সমাপ্তি ঘটায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কালীবাড়ী গোবিন্দ বাড়ী ও ধর্মসভা মন্দির কমিটির কর্তৃপক্ষরা






