নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার হাট-বাজারগুলো দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত। অথচ, এসব হাট-বাজার থেকে প্রতিবছর সরকারের রাজস্ব আয় কোটি কোটি টাকা। এই অর্থ ব্যাংকে জমা থাকলেও বাজারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়নে নেই কার্যকর কোনো উদ্যোগ।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্যমতে, তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নরুল ইসলাম প্রায় ৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প চূড়ান্ত করেছিলেন ২৫টি হাট-বাজার উন্নয়নের জন্য। কিন্তু তার বদলির পর প্রকল্প বাস্তবায়ন থমকে যায়। বর্তমান ইউএনও নুসরাত জাহান সম্মতি দিলেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী ফজলুল হক।
তাড়াশের ঐতিহ্যবাহী নওগাঁ হাটের ইজারাদার মো. নিজাম উদ্দিন জানান, প্রায় ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকায় ইজারা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু হাটে কোনো উন্নয়ন নেই। সেড ভেঙে পড়েছে, ভেতরের রাস্তা বেহাল, ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ।
বিনসাড়া হাটের ইজারাদার নুরুল ইসলাম বলেন, উপজেলার সবচেয়ে বড় ধানের হাট বিনসাড়ায় কোনো সেড নেই। বাধ্য হয়ে কৃষকরা সড়কের দুই পাশে ধান বিক্রি করেন, ফলে ঝুঁকি বাড়ছে। শত বছরের এই হাট এখন ধ্বংসের মুখে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম আব্দুর রাজ্জাক, তাড়াশ বাজারের সাবেক সেক্রেটারি, বলেন, তিনটি সেড ভেঙে গেছে। বারবার আলোচনায় এসেছে, কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রোদ-বৃষ্টিতে ছাউনি না থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতারা দুর্ভোগে। ড্রেনেজের অভাবে জমে থাকা কাদাপানিতে হাটে হাঁটাচলা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। নেই টয়লেট, নেই নলকূপ। অনেক বাজারে ভেঙে পড়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, হাট-বাজার উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে(সুত্র-ইত্তেফাক)






